বারি স্কোয়াশ-১ ও উচ্চমূল্য ফসল উৎপাদন প্রযুক্তি
আমাদের বাংলাদেশী আদিকাল থেকে মানুষ কৃষির সাথে সম্পৃক্ত কিন্তু বাংলাদেশের
মানুষ শুধু আগের গতানু গতই অনুসারে কৃষি চাষবাস করে থাকে। কৃষকরা যেভাবে কৃষি
চাষবাস করেছে বর্তমান যুগে এসে সেভাবে লাভবান হতে পারে না।
কারণ উচ্চ ফলনশীল জাত ছাড়া কখনোই ভালো ফলন পাওয়া যায় না. সে দিক থেকে এখন
বর্তমানে বাংলাদেশ বিদেশীদের উচ্চ ফলনশীল জাত ইমপোর্ট করে বাংলাদেশে কৃষকদের
হাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভিন্ন জাতের সবজি ধান গম ভুট্টা ইত্যাদি বীজ
হাতে তুলে দিচ্ছেন।যা চাষবাস করে এখন আমাদের বাংলাদেশের কৃষকরা অনেক লাভবান
হচ্ছেন। যার মধ্যে আমরা এখন একটি বিদেশী ফসল নিয়ে আলোচনা করব তা হচ্ছে
স্কোয়াশ এটি একটি কুমড়া জাতীয় সবজি যার মধ্যে অনেক ভিটামিন রয়েছে. এবং এর
পাশাপাশি আরো উচ্চ ফলনশীল সবজি ফসলের নাম গুলো তুলে ধরা হলো
পেজ সূচিপএ
-
একনজরে উচ্চ ফলনশীল ও উপযোগী ফসলের নামের তালিকা
- উচ্চ ফলনশীল ফসলের বিভিন্ন জাত
- বারি স্কোয়াশ-১ zucchini
- পুষ্টিগুণ ও ব্যবহারঃ
- স্কোয়াশের জাতঃ
- জলবায়ু ও মাটিঃ
- স্কোয়াশ চাষের জমি তৈরি
- বীজ বপনের সময়ঃ
- বীজ বপন ও চারা উৎপাদনঃ
- বেড তৈরিঃ
- বীজের হারঃ
- সবজির ওজনঃ
- ফুল ও ফল আসার সময়ঃ
- সার ব্যবস্থাপনা শতাংশ প্রতি
- স্কোয়াশের বপন এবং রোপন প্রযুক্তিঃ
- লেখকের শেষ কথাঃ
একনজরে উচ্চ ফলনশীল ও উপযোগী ফসলের নামের তালিকা
1/ স্কোয়াশ
২/ ক্যাপসিকাম
3/ গ্রীষ্মকালীন টমেটো
4/ পটল
5/ মিষ্টি কুমড়া
6/ করলা
7/ সিম
8/ লাউ ঢেঁড়স
9/ বরবটি
10/ তরমুজ
11/ কচুর লতি
12/ বাঙ্গি
13/ আম
14/ পেয়ারা
15/ কলা ও
16/ পেঁপে
আরওপড়ুনঃউচ্চ ফলনশীল ফসলের বিভিন্ন জাত
এখন আমরা উচ্চ ফলনশীল ফসলের বিভিন্ন জাত কোন ফসলের কোন জাত বেশি ভালো ফলন হয়
সে জাতগুলো তুলে ধরবো তা নিম্নে নাম দেওয়া হোল ,যেমন বারি স্কোয়াশ-১
zucchini এ কন্টেনের মধ্যে স্কোয়াশের চাষ পদ্ধতি ও রোগ-বালাই ব্যবস্থাপনা
নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
বারি স্কোয়াশ-১ zucchini
স্কোয়াশ মূলত একটি শীতকালীন সবজি। এটি বিদেশি জনপ্রিয় সবজি দেখতে বাঙ্গির
মত লম্বা ও সবুজ। মিষ্টি কুমড়ার মত এক ধরনের সুস্বাদু ও পুষ্টি কর সবজি। এটি
সবুজ ও হলুদ দুই ধরনের হয়ে থাকে। বাংলাদেশে নতুনভাবে এটি চাষ শুরু হয়েছে
ভারতে চাষবাদ হচ্ছে এরকম কয়েকটি জাতের-মধ্যে এটি
zucchini(Cucurbitapepo) একটি জনপ্রিয় যাত।
পুষ্টিগুণ ও ব্যবহারঃ
স্কোয়াশে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে। এর পাতা ও কান্ড সবজি হিসেবে খাওয়া
হয়। সামার স্কোয়াশ তরকারি ভাজি হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে। সামার স্কোয়াশ
চাষ করে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি আয় করা সম্ভব।
স্কোয়াশের জাতঃ
বারি স্কোয়াশ ১ যাত টি বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট করতে অবমুক্ত
হয়েছে। এটি সবুজ বর্ণের ফল। গড় ফলের ওজন ১.০৫। এ জাতের জীবনকাল ৮০থেকে ৯০
দিন। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন হল ৪৫ থেকে ৫০ টন পর্যন্ত।
জলবায়ু ও মাটিঃ
স্কোয়াশ চাষের জন্য বেলে দু আস মাটি বেশীয় উপযুক্ত। আমাদের দেশে প্রায় সব
জায়গাতে মিষ্টি কুমড়া জন্মাই। অতএব সেসব জায়গায় স্কোয়াশ চাষ করা যাবে।
স্কোয়াশ চাষের জমি তৈরি
ভালো ফলন পেতে হলে জমি গভীরভাবে চাষ করতে হবে। মাটি ও জমির প্রকারভেদে ৫-৬
চাষ ও মই দিয়ে জমি সমান করে নিতে হবে। শীতকালীন চাষের সময় জমিতে রসের
পরিমাণ কম থাকতে হবে প্রয়োজনে জমি চাষের আগে সেচ দিয়ে নিতে হবে।
বীজ বপনের সময়ঃ
শীতকালে চাষবাদ এর জন্য ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি থেকে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি বা
সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে বীজ বপন করা হয়। তবে আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য
ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আশিন মাসে বা আগস্টের মাঝামাঝি থেকে
সেপ্টেম্বর মাসে জমিতে সরাসরি বীজ বপন করতে হয়।
বীজ বপন ও চারা উৎপাদনঃ
শীতকালে চাষের জন্য অক্টোবর মাস থেকে ডিসেম্বর মাসে বীজ বপন করা করা যায়। তা
ছাড়া নাসারীতে পলিব্যাগে উৎপাদন করে নিলে ভালো হয়। বীজ বোপনের জন্য ৮*১০
সেমি বা তার থেকে কিছু বড় আকারের পলিব্যাগ ব্যবহার করা যায়। প্রথমে অর্ধেক
মাটি ও অর্ধেক গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করে পলিব্যাগে ভর্তি করতে হবে।
সহজে অংক রোদ গমের জন্য পরিষ্কার পানিতে ১৫ থেকে ২০ ঘন্টা অথবা শতকরা একবার
পটাশিয়াম নাইট্রেট দ্রবণে বীজ এক রাত ভিজিয়ে অতঃপর পলিব্যাগে বপন করতে হবে।
প্রতি ব্যাগে দুটি করে বীজ বপন করতে হবে। বীজের আকারে দ্বিগুণ মাটির গভীরে
বীজ পুতি দিতে হবে। বীজ সরাসরি মাদায়ো বপন করা হয়। সেক্ষেত্রে সার প্রয়োগ
ও মাদা তৈরি চার থেকে পাঁচ দিন পর প্রতি মাদায় ২-৩ টি করে বীজ বপন করা যায়।
চারা গজানো.১০ থেকে১২ দিন পর একটি সুস্থ ও সবল চারা রেখে বাকিগুলো উঠিয়ে
ফেলে দিতে হবে। চারার বয়.১৬-১৭ দিন হলে তা মাঠে প্রস্তুত মাদায় লাগাতে হবে।
বেড তৈরিঃ
বেডের উচ্চতা১৫-২০সেমি ও প্রস্থ ১.১.২৫ মি। এবং লম্বা জমির অনুসারে বা
সুবিধা অনুসারে নিতে হবে । পরপর বেড তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি দুই
বেডের মাঝখানে ৭০ সেমি ,প্রশস্ত সেচ ও নিষ্কাশন নালা থাকবে। মাদার
দেশ৫০-৫৫ সেমি, গভীরতা ৫০ থেকে ৫৫ সেম্ এবং তল দেশ ৪৫ থেকে ৫০ সেমি,
প্রশস্ত হবে প্রশস্ত সেচ নালা সেচ নিষ্কাশন নালা সংলগ্ন বেডের
কিনারা থেকে ৫০ সেমি, বাদ দিয়ে মাদার কেন্দ্র ধরে ২ মিটার অন্তর অন্তর
এক সারি মাদা তৈরি করতে হবে। প্রতি বেডের এক সারিতে চারা লাগাতে হবে।
বীজের হারঃ
এক বিঘা বা ৩৩ শত ক জমিতে ছোটো সাইজের বীজ হলে ৩০০ গ্রাম/২৪০০-২৫০০ কি
বীজ লাগাতে হবে। বড় সাইজের হলে ৫০০ গ্রামের মত লাগতে পারে। শতক প্রতি ১০
গ্রাম বীজ লাগবে।
বিভিন্ন কোম্পানি স্কোয়াশের বীজ বাজারজাত করছে। আমাদের বাংলাদেশে এখন
বর্তমানে সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি বিভিন্ন
কোম্পানি যেমন, লাল তীর কোম্পান্ এসিআই কোম্পানি, ব্রাক কোম্পানি। ও
ইত্যাদি যে কোম্পানিগুলো সীড বা বীজ উৎপাদন করে তারা উচ্চ ফলনশীল
হাইব্রিড জাতের বিভিন্ন সবজি বীজ সারা বাংলাদেশে সরবরাহ করছে।
সবজির ওজনঃ
সাধারণত স্কোয়াশের ওজন ৭০০-৮০০ গ্রাম বা লম্বায়৭/৮ ইঞ্চি হয়ে থাকে।
বেশি বড় সাঈদ করলে সবজি হিসেবে স্বাদ ও মান পরিবর্তন হয়ে যায়।
এছাড়া.২-৩ স্কোয়াশের ওজন প্রায় ১ কেজি। প্রতিটি স্কোয়াশ বিক্রি হয়
৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
ফুল ও ফল আসার সময়ঃ
বীজ বপণের অল্প দিনের মধ্যেই গাছ বেড়ে ওঠে এবং রোপনের ৩৫ থেকে ৪০ দিনের
মধ্যেই গাছে ফুল আসে। পরাগায়নের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহ করা
যায়। বীজ লাগানো থেকে ফল তুলতে সময় লাগে ২ আড়াই মাস ফুল ও ফল দেখতে
অনেকটা মিষ্টি কুমড়ার মত। ৫৫ থেকে ৬০ দিনের ভিতর স্কোয়াশ বাজারজাত করা
যায়।
সার ব্যবস্থাপনা শতাংশ প্রতি
| সারের নাম | পরিমান |
|---|---|
| গোবর | ৮০ কেজি |
| ইউরিয়া | ৭০০ গ্রাম |
| টি এস পি | ৭০০ গ্রাম |
| এমওপি | ৬০০ গ্রাম |
| জিপসাম | ৪০০ গ্রাম |
| ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড | ৫০ গ্রাম |
| বরাক্স | ৪০ গ্রাম |
| দস্তা | ৫০ গ্রাম |
জমি তৈরির সময় গোবর ২০ কেজি, টিএসপি ৩৫০ গ্রা্ এমওপি ২০০ গ্রাম,
জিপসাম ৪০০ গ্রা্ ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ৫০ গ্রাম, বোরাক চল্লিশ
গ্রাম, দশটা ৫০ গ্রাম, শতাংশ প্রতি প্রয়োগ করতে হবে। চারা রোপনের ৭
থেকে ১০ দিন পূর্বে বাধা পতি গোবর ১০ কেজি, টিএসপি ৬০ গ্রাম এমওপি 50
গ্রাম ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ৮গ্রাম চারা রোপনের ১০ থেকে ১৫ দিন পর
মাদা প্রতি ৩০ গ্রাম ইউরিয়া ও ২৫ গ্রাম এমওপি, চারা রোপনের ৩০ থেকে ৩৫
দিন পর মাদাপ্রতি ২৫ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগ করতে হবে।
স্কোয়াশের বপন এবং রোপন প্রযুক্তিঃ
স্কোয়াশ বীজ সরাসরি জমিতে রোপন করা যায়। তবে ছোট আকারের পলিব্যাগে
চারা উৎপাদন করে বা প্লাস্টিক ট্রেতে করে তা জমিতে রোপন করলে ভালো হয়।
লেখকের শেষ কথাঃ
পরিশেষে বলা যায় যে, স্কোয়াশ একটি বিদেশী ফল বা ফসল বা সবজি। উচ্চ
ফলনশীল ও অধিক ভিটামিন যুক্ত একটি সবজি। এ সবজিটি বর্তমানে
বাংলাদেশে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশের কৃষকরা এ সবজি
সম্পর্কে আগে জানতো না বা বুঝতো না ।এখন আধুনিক যুগ এ যুগে বিভিন্ন
ইউটিউব মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নতুন নতুন বিদেশী সবজি ফসল
সম্পর্কে অনেক জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন। এবং এর পাশাপাশি বাংলাদেশে
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে
পারছেন। এবং সেই অনুসারে কথা মেনে সবজি উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। তাই
দেশে বিদেশে ফসল উৎপাদন করে অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য আধুনিক যুগে
আধুনিক প্রযুক্তি মেনে এ উচ্চ ফলনশীল জাত জাত উৎপাদন করা
হচ্ছে। এ পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।


গোল্ডেন প্লাস আইটি সেন্টারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url